Addiction Management and Integrated Care (AMIC), the tobacco, drugs and HIV prevention institution of Dhaka Ahsania Mission (DAM), is a widely acclaimed initiative in Bangladesh.
Web Mail | Useful Link | | | |

ঢাকা আহ্ছানিয়া মিশনের বাজেট পরবর্তী প্রতিক্রিয়া স্বল্পমূল্যের তামাক পণ্যের কর বৃদ্ধি না করায় স্বাস্থ্য ঝুঁকিকে পড়বে দরিদ্র্য জনগোষ্ঠী

ঢাকা আহ্ছানিয়া মিশনের বাজেট পরবর্তী প্রতিক্রিয়া স্বল্পমূল্যের তামাক পণ্যের কর বৃদ্ধি না করায় স্বাস্থ্য ঝুঁকিকে  পড়বে দরিদ্র্য জনগোষ্ঠী

ঢাকা আহ্ছানিয়া মিশনের বাজেট পরবর্তী প্রতিক্রিয়া স্বল্পমূল্যের তামাক পণ্যের কর বৃদ্ধি না করায় স্বাস্থ্য ঝুঁকিকে পড়বে দরিদ্র্য জনগোষ্ঠী
গত ১৩ জুন ২০১৯ জাতীয় সংসদে ২০১৯-২০ অর্থবছরের জন্য প্রস্তাবিত বাজেটের প্রেক্ষিতে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে ঢাকা আহ্ছানিয়া মিশনের স্বাস্থ্য সেক্টর। ১৫ জুন ২০১৯, শনিবার রাজধানীর শ্যামলীস্থ স্বাস্থ্য সেক্টরের কার্যালয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে এ প্রতিক্রিয়া জানান।
প্রতিক্রিয়ায় স্বাস্থ্য সেক্টরের পরিচালক ইকবাল মাসুদ বলেন, প্রস্তাবিত বাজেটে নিন্ম, মধ্যম, উচ্চ ও প্রিমিয়াম স্তরে সিগারেটের সম্পূরক শুল্ক অপরিবর্তিত রেখে শুধুমাত্র মূল্য পরিবর্তনের মাধ্যমে ১০ শলাকা সিগারেটের দাম যথাক্রমে ২, ১৫, ১৮ এবং ১৮ টাকা বৃদ্ধি করে বর্তমান মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ৩৭, ৬৩ টাকা, ৯৩ টাকা এবং ১২৩ টাকা। ফলে, বিশেষত বহুজাতিক তামাক কোম্পানিগুলো এবারের বাজেটে ব্যাপকভাবে লাভবান হওয়ার সুযোগ পাচ্ছে। এবং সম্পূরক শুল্ক বৃদ্ধি না হওয়া সরকারের রাজস্ব বাড়ার কোন সুযোগ থাকছে না। সরকারের এই পদক্ষেপে বিগত বছরের তুলনায় মূল্যস্তর ভেদে তামাক কোম্পানিগুলোর আয় ৩১ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পাবে। স্তর সংখ্যা অপরিবর্তিত রাখায় ভোক্তার সিগারেট স্তর পরিবর্তনের সুযোগ থেকে যাবে।
নিন্মস্তরে দাম বৃদ্ধি মাত্র ২ টাকা করা হয় যা অত্যন্ত হতাশাজনক। এদিকে সিগারেট ধূমপায়ীর প্রায় চার ভাগের তিনভাগই এই নিন্ম স্তরের সিগারেটের ভোক্তা। জনগণের মাথাপিছু আয়বৃদ্ধি এবং মূল্যস্ফীতি বিবেচনায় না নেওয়ার ফলে নিন্ম আয়ের মানুষের মধ্যে ধূমপানের প্রবণতার কোনো পরিবর্তন হবেনা এবং একই সাথে নতুন তরুন প্রজন্মকে ধূমপানে নিরুৎসাহিত করা যাবেনা।
এছাড়াও তিনি বলেন, বিড়ির ক্ষেত্রে বাজেটে ফিল্টারযুক্ত বিড়ির দাম ১৫ টাকা থেকে ১৭ টাকা করা হয়েছে। এদিকে ফিল্টারবিহীন বিড়িতে দাম বেড়েছে মাত্র ১.৫ টাকা। ফিল্টারাবিহীন বিড়ির প্রধান ভোক্তা নিম্ন আয়ের দরিদ্র মানুষ। দরিদ্র মানুষের ওপর এই সামান্য মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব পড়বেনা। ফিল্টারবিহীন ও ফিল্টারযুক্ত বিড়িতে সম্পূরকশুল্ক ৫ শতাংশ বৃদ্ধি করা হয় যার মাধ্যমে সরকারের রাজস্ব বাড়বে এবং বিড়ি কোম্পানির মুনাফা কিছুটা হলেও কমে আসবে। কিন্তু আমাদের প্রস্তাবনায় বিড়ির ফিল্টার এবং নন-ফিল্টার বিভাজন তুলে দেওয়ার প্রস্তাব বিবেচিত হয়নি।
ধোঁয়াবিহীন তামাকপণ্যে করারোপের ক্ষেত্রে প্রচলিত ট্যারিফ ভ্যালু প্রথা বাতিলের করে প্রস্তাবিত বাজেটে প্রতি ১০ গ্রাম জর্দার খুচরা মূল্য ৩০ টাকা করা হয়, যা ২০১৮-১৯-এ ছিল ১২ টাকা । প্রতি ১০ গ্রাম গুলের খুচরা মূল্য ১৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে, যা ২০১৮-১৯-এ ছিল ৬ টাকা । এবং সম্পূরক শুল্ক আরোপ করা হয় ৫০%। ওজনের উপর ভিত্তি করে জর্দা ও গুলের মূল্য নির্ধারণ করার ফলে ধোঁয়াবিহীন (জর্দা ও গুলের) পণ্য থেকে কর আদায়ের জটিলতা কিছুটা হলেও সহজ হবে এবং আদায়কৃত করের পরিমাণও উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পাবে এবং সরকারের রাজস্ব বাড়বে আশা করা যায়।
বাজেট প্রতিক্রিয়ায় তিনি আরো বলেন, অপ্রক্রিয়াজাত তামাকের বিদ্যমান ১০ শতাংশ রপ্তানি শুল্ক তুলে দেয়ায় পাশপাপাশি প্রক্রিয়াজাত তামাকপণ্য রপ্তানি উৎসাহিত করতে শূন্য শতাংশ রপ্তানি শুল্ক প্রস্তাবিত বাজেটেও অব্যাহত রাখা হয়েছে। বহুজাতিক তামাক কোম্পানিগুলো এখন বাংলাদেশে তামাক চাষ বৃদ্ধি করবে এবং দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও পরিবেশ হুমকির মুখে পড়বে। সুতরাং এই পদক্ষেপের মাধ্যমে দেশে তামাকের উৎপাদনকে উৎসাহিত করা হবে।
তিনি বলেন, সকল প্রকার তামাকজাত পণ্য প্রস্তুতকারী তাদের ব্যবসায় থেকে অর্জিত আয়ের উপর বিদ্যমান ২.৫% সারচার্জ বহাল রাখা হয়েছে, এবং তামাক বিরোধী সংগঠনের বহুল প্রত্যাশিত স্বাস্থ্য উন্নয়ন সারচার্জ বৃদ্ধি না করে গত বাজেটের মতই ১% শতাংশ রাখা হয়। কর্পোরেট ট্যাক্স এবং ভ্যাট গত বছরের মত অপরিবর্তিত থাকার প্রস্তাব করা হয়।
প্রস্তাবিত বাজেটে তাদের দাবি জানিয়ে বলেন, আমরা স্বল্পমূল্যের বিড়ি-সিগারেটসহ সকল তামাক পণ্যের উপর উচ্চহারে কর বৃদ্ধি প্রস্তাব করছি। বিড়ি-সিগারেট সহ সকল তামাকপণ্যের মূল্যস্তর বাতিল এর প্রস্তাব করছি। বাজেটে তামাক কোম্পানিকে ইনপুট ক্রেডিট সুবিধা দেয়ায় কোম্পানিগুলো বছরে প্রায় ৩০০০ কোটি টাকা কর রেহাত করার সুযোগ পাবে। এই সুবিধা রহিত করার দাবি জানাচ্ছি আমরা এবং অবিলম্বে তামাক করনীতি প্রণয়নের দাবি জানাচ্ছি।
এ সময় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন দ্যা ইউনিয়নের টেকনিক্যাল কনসালটেন্ট মাহবুবুল আলম তাহিন, ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশনের রোগতত্ত¡ এন্ড গবেষণা-এর প্রধান অধ্যাপক ড: সোহেল রেজা চৌধুরী, তামাক বিরোধী নারী জোটের কো-অডিনেটর সৈয়দা সাঈদা আক্তার, যমুনা নিউজের স্পেশাল করেসপন্ডেট সুশান্ত সিনহা, এইড ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক আমিনুল ইসলাম বকুল, সাভার পৌরসভার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা শরাফ উদ্দিন আহমদ চৌধুরী, ক্যাম্পেইন ফর টোব্যাকো ফ্রি কিড্স-এর কান্ট্রি লিড কন্সালটেন্ট মো: শরীফুল ইসলাম, কান্ট্রি ম্যানেজার আব্দুস সালাম মিঞাঁ।

Please like and share us: